74

আল মুদ্দাস্সির

আয়াত সংখ্যা 56

0.00

3:47

یٰۤاَیُّہَا الۡمُدَّثِّرُ ۙ﴿۱﴾

হে বস্ত্রাচ্ছাদিত!


قُمۡ فَاَنۡذِرۡ ۪ۙ﴿۲﴾

উঠ, আর সতর্ক কর,


وَ رَبَّکَ فَکَبِّرۡ ۪﴿ۙ۳﴾

এবং তোমার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর।


وَ ثِیَابَکَ فَطَہِّرۡ ۪﴿ۙ۴﴾

তোমার পরিচ্ছদ পবিত্র রাখ,


وَ الرُّجۡزَ فَاہۡجُرۡ ۪﴿ۙ۵﴾

পৌত্তলিকতা পরিহার করিয়া চল,


وَ لَا تَمۡنُنۡ تَسۡتَکۡثِرُ ۪﴿ۙ۶﴾

অধিক পাওয়ার প্রত্যাশায় দান করিও না।


وَ لِرَبِّکَ فَاصۡبِرۡ ؕ﴿۷﴾

এবং তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে ধৈর্য ধারণ কর।


فَاِذَا نُقِرَ فِی النَّاقُوۡرِ ۙ﴿۸﴾

যেদিন শিংগায় ফুৎকার দেওয়া হইবে


فَذٰلِکَ یَوۡمَئِذٍ یَّوۡمٌ عَسِیۡرٌ ۙ﴿۹﴾

সেই দিন হইবে এক সংকটের দিন-


عَلَی الۡکٰفِرِیۡنَ غَیۡرُ یَسِیۡرٍ ﴿۱۰﴾

যাহা কাফিরদের জন্য সহজ নয়।


ذَرۡنِیۡ وَ مَنۡ خَلَقۡتُ وَحِیۡدًا ﴿ۙ۱۱﴾

ছাড়িয়া দাও আমাকে এবং যাহাকে আমি সৃষ্টি করিয়াছি একাকী।


وَّ جَعَلۡتُ لَہٗ مَالًا مَّمۡدُوۡدًا ﴿ۙ۱۲﴾

আমি তাহাকে দিয়াছি বিপুল ধন-সম্পদ


وَّ بَنِیۡنَ شُہُوۡدًا ﴿ۙ۱۳﴾

এবং নিত্য সঙ্গী পুত্রগণ,


وَّ مَہَّدۡتُّ لَہٗ تَمۡہِیۡدًا ﴿ۙ۱۴﴾

এবং তাহাকে দিয়াছি স্বচ্ছন্দ জীবনের প্রচুর উপকরণ-


ثُمَّ یَطۡمَعُ اَنۡ اَزِیۡدَ ﴿٭ۙ۱۵﴾

ইহার পরও সে কামনা করে যে, আমি তাহাকে আরও অধিক দেই।


کَلَّا ؕ اِنَّہٗ کَانَ لِاٰیٰتِنَا عَنِیۡدًا ﴿ؕ۱۶﴾

না, তাহা হইবে না, সে তো আমার নিদর্শনসমূহের উদ্ধত বিরুদ্ধাচারী।


سَاُرۡہِقُہٗ صَعُوۡدًا ﴿ؕ۱۷﴾

আমি অচিরেই তাহাকে চড়াইব শাস্তির পাহাড়ে।


اِنَّہٗ فَکَّرَ وَ قَدَّرَ ﴿ۙ۱۸﴾

সে তো চিন্তা করিল এবং সিদ্ধান্ত করিল।


فَقُتِلَ کَیۡفَ قَدَّرَ ﴿ۙ۱۹﴾

অভিশপ্ত হউক সে ! কেমন করিয়া সে এই সিদ্ধান্ত করিল!


ثُمَّ قُتِلَ کَیۡفَ قَدَّرَ ﴿ۙ۲۰﴾

আরও অভিশপ্ত হউক সে! কেমন করিয়া সে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হইল!


ثُمَّ نَظَرَ ﴿ۙ۲۱﴾

সে আবার চাহিয়া দেখিল।


ثُمَّ عَبَسَ وَ بَسَرَ ﴿ۙ۲۲﴾

অতঃপর সে ভ্রূকুঞ্চিত করিল ও মুখ বিকৃত করিল।


ثُمَّ اَدۡبَرَ وَ اسۡتَکۡبَرَ ﴿ۙ۲۳﴾

অতঃপর সে পিছন ফিরিল এবং দম্ভ প্রকাশ করিল।


فَقَالَ اِنۡ ہٰذَاۤ اِلَّا سِحۡرٌ یُّؤۡثَرُ ﴿ۙ۲۴﴾

এবং ঘোষণা করিল, ‘ইহা তো লোক পরম্পরায় প্রাপ্ত জাদু ভিন্ন আর কিছু নয়,


اِنۡ ہٰذَاۤ اِلَّا قَوۡلُ الۡبَشَرِ ﴿ؕ۲۵﴾

‘ইহা তো মানুষেরই কথা।


سَاُصۡلِیۡہِ سَقَرَ ﴿۲۶﴾

আমি তাহাকে নিক্ষেপ করিব সাকার-এ,


وَ مَاۤ اَدۡرٰىکَ مَا سَقَرُ ﴿ؕ۲۷﴾

তুমি কি জান সাকার কী ?


لَا تُبۡقِیۡ وَ لَا تَذَرُ ﴿ۚ۲۸﴾

উহা উহাদেরকে জীবিতাবস্থায় রাখিবে না এবং মৃত অবস্থায়ও ছাড়িয়া দিবে না।


لَوَّاحَۃٌ لِّلۡبَشَرِ ﴿ۚۖ۲۹﴾

ইহা তো গাত্রচর্ম দগ্ধ করিবে,


عَلَیۡہَا تِسۡعَۃَ عَشَرَ ﴿ؕ۳۰﴾

সাকার-এর তত্ত্বাবধানে রহিয়াছে উনিশজন প্রহরী।


وَ مَا جَعَلۡنَاۤ اَصۡحٰبَ النَّارِ اِلَّا مَلٰٓئِکَۃً ۪ وَّ مَا جَعَلۡنَا عِدَّتَہُمۡ اِلَّا فِتۡنَۃً لِّلَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا ۙ لِیَسۡتَیۡقِنَ الَّذِیۡنَ اُوۡتُوا الۡکِتٰبَ وَ یَزۡدَادَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِیۡمَانًا وَّ لَا یَرۡتَابَ الَّذِیۡنَ اُوۡتُوا الۡکِتٰبَ وَ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ ۙ وَ لِیَقُوۡلَ الَّذِیۡنَ فِیۡ قُلُوۡبِہِمۡ مَّرَضٌ وَّ الۡکٰفِرُوۡنَ مَاذَاۤ اَرَادَ اللّٰہُ بِہٰذَا مَثَلًا ؕ کَذٰلِکَ یُضِلُّ اللّٰہُ مَنۡ یَّشَآءُ وَ یَہۡدِیۡ مَنۡ یَّشَآءُ ؕ وَ مَا یَعۡلَمُ جُنُوۡدَ رَبِّکَ اِلَّا ہُوَ ؕ وَ مَا ہِیَ اِلَّا ذِکۡرٰی لِلۡبَشَرِ ﴿٪۳۱﴾

আমি ফিরিশ্তাদেরকে করিয়াছি জাহান্নামের প্রহরী; কাফিরদের পরীক্ষাস্বরূপই আমি উহাদের এই সংখ্যা উল্লেখ করিয়াছি যাহাতে কিতাবীদের দৃঢ় প্রত্যয় জন্মে, বিশ্বাসীদের বিশ্বাস বর্ধিত হয় এবং বিশ্বাসীগণ ও কিতাবীগণ সন্দেহ পোষণ না করে। ইহার ফলে, যাহাদের অন্তরে ব্যাধি আছে তাহারা ও কাফিররা বলিবে, ‘আল্লাহ্ এই অভিনব উক্তি দ্বারা কি বুঝাইতে চাহিয়াছেন ? এইভাবে আল্লাহ্ যাহাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাহাকে ইচ্ছা পথনির্দেশ করেন। তোমার প্রতিপালকের বাহিনী সম্পর্কে একমাত্র তিনিই জানেন। জাহান্নামের এই বর্ণনা তো মানুষের জন্য সাবধান বাণী।


کَلَّا وَ الۡقَمَرِ ﴿ۙ۳۲﴾

কখনই না, চন্দ্রের শপথ,


وَ الَّیۡلِ اِذۡ اَدۡبَرَ ﴿ۙ۳۳﴾

শপথ রাত্রির, যখন উহার অবসান ঘটে;


وَ الصُّبۡحِ اِذَاۤ اَسۡفَرَ ﴿ۙ۳۴﴾

শপথ প্রভাতকালের, যখন উহা হয় আলোকোজ্জ্বল-


اِنَّہَا لَاِحۡدَی الۡکُبَرِ ﴿ۙ۳۵﴾

এই জাহান্নাম ভয়াবহ বিপদসমূহের অন্যতম,


نَذِیۡرًا لِّلۡبَشَرِ ﴿ۙ۳۶﴾

মানুষের জন্য সতর্ককারী-


لِمَنۡ شَآءَ مِنۡکُمۡ اَنۡ یَّتَقَدَّمَ اَوۡ یَتَاَخَّرَ ﴿ؕ۳۷﴾

তোমাদের মধ্যে যে অগ্রসর হইতে চায় কিংবা যে পিছাইয়া পড়িতে চায় তাহার জন্য


کُلُّ نَفۡسٍۭ بِمَا کَسَبَتۡ رَہِیۡنَۃٌ ﴿ۙ۳۸﴾

প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ কৃতকর্মের দায়ে আবদ্ধ,


اِلَّاۤ اَصۡحٰبَ الۡیَمِیۡنِ ﴿ؕۛ۳۹﴾

তবে দক্ষিণ পার্শ্বস্থ ব্যক্তিগণ নয়,


فِیۡ جَنّٰتٍ ۟ؕۛ یَتَسَآءَلُوۡنَ ﴿ۙ۴۰﴾

তাহারা থাকিবে উদ্যানে এবং তাহারা জিজ্ঞাসা-বাদ করিবে-


عَنِ الۡمُجۡرِمِیۡنَ ﴿ۙ۴۱﴾

অপরাধীদের সম্পর্কে,


مَا سَلَکَکُمۡ فِیۡ سَقَرَ ﴿۴۲﴾

‘তোমাদেরকে কিসে সাকার-এ নিক্ষেপ করিয়াছে ?


قَالُوۡا لَمۡ نَکُ مِنَ الۡمُصَلِّیۡنَ ﴿ۙ۴۳﴾

উহারা বলিবে, ‘আমরা মুসল্লীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না,


وَ لَمۡ نَکُ نُطۡعِمُ الۡمِسۡکِیۡنَ ﴿ۙ۴۴﴾

‘আমরা অভাবগ্রস্তকে আহার্য দান করিতাম না,


وَ کُنَّا نَخُوۡضُ مَعَ الۡخَآئِضِیۡنَ ﴿ۙ۴۵﴾

‘এবং আমরা বিভ্রান্ত আলোচনাকারীদের সঙ্গে বিভ্রান্তিমূলক আলোচনায় নিমগ্ন থাকিতাম।


وَ کُنَّا نُکَذِّبُ بِیَوۡمِ الدِّیۡنِ ﴿ۙ۴۶﴾

‘আমরা কর্মফল দিবস অস্বীকার করিতাম,


حَتّٰۤی اَتٰىنَا الۡیَقِیۡنُ ﴿ؕ۴۷﴾

‘আমাদের নিকট মৃত্যুর আগমন পর্যন্ত।


فَمَا تَنۡفَعُہُمۡ شَفَاعَۃُ الشّٰفِعِیۡنَ ﴿ؕ۴۸﴾

ফলে সুপারিশকারীদের সুপারিশ উহাদের কোন কাজে আসিবে না।


فَمَا لَہُمۡ عَنِ التَّذۡکِرَۃِ مُعۡرِضِیۡنَ ﴿ۙ۴۹﴾

উহাদের কী হইয়াছে যে, উহারা মুখ ফিরাইয়া নেয় উপদেশ হইতে ?


کَاَنَّہُمۡ حُمُرٌ مُّسۡتَنۡفِرَۃٌ ﴿ۙ۵۰﴾

উহারা যেন ভীত-ত্রস্ত গর্দভ-


فَرَّتۡ مِنۡ قَسۡوَرَۃٍ ﴿ؕ۵۱﴾

যাহা সিংহের সম্মুখ হইতে পলায়নপর।


بَلۡ یُرِیۡدُ کُلُّ امۡرِیًٔ مِّنۡہُمۡ اَنۡ یُّؤۡتٰی صُحُفًا مُّنَشَّرَۃً ﴿ۙ۵۲﴾

বস্তুত উহাদের প্রত্যেকেই কামনা করে যে, তাহাকে একটি উন্মুক্ত গ্রন্থ দেওয়া হউক।


کَلَّا ؕ بَلۡ لَّا یَخَافُوۡنَ الۡاٰخِرَۃَ ﴿ؕ۵۳﴾

না, ইহা হইবার নয়; বরং উহারা তো আখিরাতের ভয় পোষণ করে না।


کَلَّاۤ اِنَّہٗ تَذۡکِرَۃٌ ﴿ۚ۵۴﴾

না, ইহা হইবার নয়, কুরআনই সকলের জন্য উপদেশবাণী।


إِنَّ يَوۡمَ ٱلۡفَصۡلِ كَانَ مِيقَٰتٗا

অতএব যাহার ইচ্ছা সে ইহা হইতে উপদেশ গ্রহণ করুক।


يَوۡمَ يُنفَخُ فِي ٱلصُّورِ فَتَأۡتُونَ أَفۡوَاجٗا

আল্লাহ্‌র ইচ্ছা ব্যতিরেকে কেহ উপদেশ গ্রহণ করিবে না, একমাত্র তিনিই ভয়ের যোগ্য এবং তিনিই ক্ষমা করিবার অধিকারী।