79

আন নাযিয়াত

আয়াত সংখ্যা 46

0.00

2:48

وَ النّٰزِعٰتِ غَرۡقًا ۙ﴿۱﴾

শপথ তাহাদের যাহারা নির্মমভাবে উৎপাটন করে,


وَّ النّٰشِطٰتِ نَشۡطًا ۙ﴿۲﴾

এবং যাহারা মৃদুভাবে বন্ধনমুক্ত করিয়া দেয়


وَّ السّٰبِحٰتِ سَبۡحًا ۙ﴿۳﴾

এবং যাহারা তীব্র গতিতে সন্তরণ করে,


فَالسّٰبِقٰتِ سَبۡقًا ۙ﴿۴﴾

আর যাহারা দ্রুতবেগে অগ্রসর হয়,


فَالۡمُدَبِّرٰتِ اَمۡرًا ۘ﴿۵﴾

অতঃপর যাহারা সকল কর্ম নির্বাহ করে।


یَوۡمَ تَرۡجُفُ الرَّاجِفَۃُ ۙ﴿۶﴾

সেই দিন প্রথম শিংগাধ্বনি প্রকম্পিত করিবে,


تَتۡبَعُہَا الرَّادِفَۃُ ؕ﴿۷﴾

উহাকে অনুসরণ করিবে পরবর্তী শিংগাধ্বনি,


قُلُوۡبٌ یَّوۡمَئِذٍ وَّاجِفَۃٌ ۙ﴿۸﴾

কত হৃদয় সেই দিন সন্ত্রস্ত হইবে,


اَبۡصَارُہَا خَاشِعَۃٌ ۘ﴿۹﴾

উহাদের দৃষ্টি ভীতি-বিহ্বলতায় নত হইবে।


یَقُوۡلُوۡنَ ءَاِنَّا لَمَرۡدُوۡدُوۡنَ فِی الۡحَافِرَۃِ ﴿ؕ۱۰﴾

তাহারা বলে, ‘আমরা কি পূর্বাবস্থায় প্রত্যাবর্তিত হইবই-


ءَ اِذَا کُنَّا عِظَامًا نَّخِرَۃً ﴿ؕ۱۱﴾

গলিত অস্থিতে পরিণত হওয়ার পরও ?


قَالُوۡا تِلۡکَ اِذًا کَرَّۃٌ خَاسِرَۃٌ ﴿ۘ۱۲﴾

তাহারা বলে, ‘তাহাই যদি হয় তবে তো ইহা সর্বনাশা প্রত্যাবর্তন।


فَاِنَّمَا ہِیَ زَجۡرَۃٌ وَّاحِدَۃٌ ﴿ۙ۱۳﴾

ইহা তো কেবল এক বিকট আওয়াজ,


فَاِذَا ہُمۡ بِالسَّاہِرَۃِ ﴿ؕ۱۴﴾

তখনই ময়দানে উহাদের আবির্ভাব হইবে।


ہَلۡ اَتٰىکَ حَدِیۡثُ مُوۡسٰی ﴿ۘ۱۵﴾

তোমার নিকট মূসার বৃত্তান্ত পৌঁছিয়াছে কি ?


اِذۡ نَادٰىہُ رَبُّہٗ بِالۡوَادِ الۡمُقَدَّسِ طُوًی ﴿ۚ۱۶﴾

যখন তাহার প্রতিপালক পবিত্র উপত্যকা তুওয়া-য় তাহাকে আহ্বান করিয়া বলিয়াছিলেন,


اِذۡہَبۡ اِلٰی فِرۡعَوۡنَ اِنَّہٗ طَغٰی ﴿۫ۖ۱۷﴾

‘ফির‘আওনের নিকট যাও, সে তো সীমালংঘন করিয়াছে,


فَقُلۡ ہَلۡ لَّکَ اِلٰۤی اَنۡ تَزَکّٰی ﴿ۙ۱۸﴾

এবং বল, ‘তোমার কি আগ্রহ আছে যে, তুমি পবিত্র হও-


وَ اَہۡدِیَکَ اِلٰی رَبِّکَ فَتَخۡشٰی ﴿ۚ۱۹﴾

‘আর আমি তোমাকে তোমার প্রতিপালকের দিকে পথপ্রদর্শন করি যাহাতে তুমি তাঁহাকে ভয় কর ?


فَاَرٰىہُ الۡاٰیَۃَ الۡکُبۡرٰی ﴿۫ۖ۲۰﴾

অতঃপর সে উহাকে মহানিদর্শন দেখাইল।


فَکَذَّبَ وَ عَصٰی ﴿۫ۖ۲۱﴾

কিন্তু সে অস্বীকার করিল এবং অবাধ্য হইল।


ثُمَّ اَدۡبَرَ یَسۡعٰی ﴿۫ۖ۲۲﴾

অতঃপর সে পশ্চাৎ ফিরিয়া প্রতিবিধানে সচেষ্ট হইল।


فَحَشَرَ فَنَادٰی ﴿۫ۖ۲۳﴾

সে সকলকে সমবেত করিল এবং উচ্চৈ:স্বরে ঘোষণা করিল,


فَقَالَ اَنَا رَبُّکُمُ الۡاَعۡلٰی ﴿۫ۖ۲۴﴾

আর বলিল, ‘আমিই তোমাদের শ্রেষ্ঠ প্রতিপালক।


فَاَخَذَہُ اللّٰہُ نَکَالَ الۡاٰخِرَۃِ وَ الۡاُوۡلٰی ﴿ؕ۲۵﴾

অতঃপর আল্লাহ্ উহাকে আখিরাতে ও দুনিয়ায় কঠিন শাস্তিতে পাকড়াও করিলেন।


اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَعِبۡرَۃً لِّمَنۡ یَّخۡشٰی ﴿ؕ٪۲۶﴾

যে ভয় করে তাহার জন্য অবশ্যই ইহাতে শিক্ষা রহিয়াছে।


ءَاَنۡتُمۡ اَشَدُّ خَلۡقًا اَمِ السَّمَآءُ ؕ بَنٰہَا ﴿ٝ۲۷﴾

তোমাদেরকে সৃষ্টি করা কঠিনতর, না আকাশ সৃষ্টি ? তিনিই ইহা নির্মাণ করিয়াছেন;


رَفَعَ سَمۡکَہَا فَسَوّٰىہَا ﴿ۙ۲۸﴾

তিনি ইহার ছাদকে সুউচ্চ করিয়াছেন ও সুবিন্যস্ত করিয়াছেন।


وَ اَغۡطَشَ لَیۡلَہَا وَ اَخۡرَجَ ضُحٰہَا ﴿۪۲۹﴾

আর তিনি ইহার রাত্রিকে করিয়াছেন অন্ধকারাচ্ছন্ন এবং প্রকাশ করিয়াছেন ইহার সূর্যালোক;


وَ الۡاَرۡضَ بَعۡدَ ذٰلِکَ دَحٰىہَا ﴿ؕ۳۰﴾

এবং পৃথিবীকে ইহার পর বিস্তৃত করিয়াছেন।


اَخۡرَجَ مِنۡہَا مَآءَہَا وَ مَرۡعٰہَا ﴿۪۳۱﴾

তিনি উহা হইতে বহির্গত করিয়াছেন উহার পানি ও তৃণ,


وَ الۡجِبَالَ اَرۡسٰہَا ﴿ۙ۳۲﴾

এবং পর্বতকে তিনি দৃঢ়ভাবে প্রোথিত করিয়াছেন;


مَتَاعًا لَّکُمۡ وَ لِاَنۡعَامِکُمۡ ﴿ؕ۳۳﴾

এই সমস্ত তোমাদের ও তোমাদের চতুষ্পদ জন্তুদের ভোগের জন্য।


فَاِذَا جَآءَتِ الطَّآمَّۃُ الۡکُبۡرٰی ﴿۫ۖ۳۴﴾

অতঃপর যখন মহাসংকট উপস্থিত হইবে


یَوۡمَ یَتَذَکَّرُ الۡاِنۡسَانُ مَا سَعٰی ﴿ۙ۳۵﴾

মানুষ যাহা করিয়াছে তাহা সে সেই দিন স্মরণ করিবে,


وَ بُرِّزَتِ الۡجَحِیۡمُ لِمَنۡ یَّرٰی ﴿۳۶﴾

এবং প্রকাশ করা হইবে জাহান্নাম দর্শকদের জন্য।


فَاَمَّا مَنۡ طَغٰی ﴿ۙ۳۷﴾

অনন্তর যে সীমালংঘন করে


وَ اٰثَرَ الۡحَیٰوۃَ الدُّنۡیَا ﴿ۙ۳۸﴾

এবং পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দেয়,


فَاِنَّ الۡجَحِیۡمَ ہِیَ الۡمَاۡوٰی ﴿ؕ۳۹﴾

জাহান্নামই হইবে তাহার আবাস।


وَ اَمَّا مَنۡ خَافَ مَقَامَ رَبِّہٖ وَ نَہَی النَّفۡسَ عَنِ الۡہَوٰی ﴿ۙ۴۰﴾

পক্ষান্তরে যে স্বীয় প্রতিপালকের সম্মুখে উপস্থিত হওয়ার ভয় রাখে এবং প্রবৃত্তি হইতে নিজকে বিরত রাখে,


فَاِنَّ الۡجَنَّۃَ ہِیَ الۡمَاۡوٰی ﴿ؕ۴۱﴾

জান্নাতই হইবে তাহার আবাস।


یَسۡـَٔلُوۡنَکَ عَنِ السَّاعَۃِ اَیَّانَ مُرۡسٰہَا ﴿ؕ۴۲﴾

উহারা তোমাকে জিজ্ঞাসা করে কিয়ামত সম্পর্কে, ‘উহা কখন ঘটিবে ?


فِیۡمَ اَنۡتَ مِنۡ ذِکۡرٰىہَا ﴿ؕ۴۳﴾

ইহার আলোচনার সঙ্গে তোমার কী সম্পর্ক ?


اِلٰی رَبِّکَ مُنۡتَہٰىہَا ﴿ؕ۴۴﴾

ইহার পরম জ্ঞান আছে তোমার প্রতিপালকেরই নিকট;


اِنَّمَاۤ اَنۡتَ مُنۡذِرُ مَنۡ یَّخۡشٰہَا ﴿ؕ۴۵﴾

যে উহার ভয় রাখে তুমি কেবল তাহার সতর্ককারী।


کَاَنَّہُمۡ یَوۡمَ یَرَوۡنَہَا لَمۡ یَلۡبَثُوۡۤا اِلَّا عَشِیَّۃً اَوۡ ضُحٰہَا ﴿٪۴۶﴾

যেই দিন উহারা ইহা প্রত্যক্ষ করিবে সেই দিন উহাদের মনে হইবে যেন উহারা পৃথিবীতে মাত্র এক সন্ধ্যা অথবা এক প্রভাত অবস্থান করিয়াছে!